বর্ষায় মেয়েদের ত্বকের যত্ন

যারা বৃষ্টি পাগল তাদের কাছে বর্ষা মানেই হলো আনন্দের ঋতু। কিন্তু শুধু কি মনে আনন্দ থাকলেই হবে যদি না ত্বক সুন্দর থাকে? সবাই ই আমরা চাই যে অন্তত আমাদের ত্বক স্বাস্থ্যবান থাকুক।আর মেয়েদের ত্বক আরো বেশি সেনসেটিভ । বর্ষায় সূর্যের তীব্রতা কম থাকায় যদি মনে করেন যে ত্বক্বের যত্ন না নিলেও হবে তাহলে সেটা কিন্তু ভুল ভাবনা। বরং বর্ষায় ত্বকের যত্ন একটু বেশি করে নিতে হবে নিয়মিত। আর এখনের মৌসুম টা বর্ষাকাল হলেও রোদের তীব্রটাও কিন্তু নেহাত কম না। যার কারনে রোদে পুড়ে যাওয়ার সমস্যায় তো ভুগতে হচ্ছেই সাথে চেহারার তরতাজা ভাবও কমে যাচ্ছে তার সাথে স্কিন ও কালো খসখসে হয়ে যাচ্ছে। সারাদিনের এত ব্যস্ততার মাঝে হয়তো অনেকেই এই সমস্ত দিকে তাকানোর একদম ই সময় পান না। অনেকের ই ধারনা নেই যে খুব দ্রুত কিভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো যায়। কিন্তু জানা না থাকলেই যে জানা যাবেনা, তা তো নয়। অনেকেই ভাবেন যে ত্বক চর্চা মানেই অনেক সময় খরচা যায়। কিন্তু আজ সেই ভুল ধারনা টা দূর হবেই। চলুন জেনে আসি খুব অল্প সময়ে কিভাবে ত্বকের চর্চা করা যায়।
দুধ ও চালের গুঁড়োর মাস্কঃ ২/৩ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো নিয়ে তাতে পরিমাণ মত লিকুইড দুধ নিতে হবে যাতে মেশালে ঘন পেষ্টের মত তৈরী করা যায়। আর যদি গুঁড়ো দুধ ব্যবহার করতে চান তাহলে সমপরিমাণ গুঁড়ো দুধ নিয়ে তাতে পানি মিশিয়েও আপনি পেষ্ট করে নিতে পারবেন খুব সহজেই। পরে মিশ্রন টি ত্বকে লাগিয়ে নিন, ১৫/২০ মিনিট ত্বকে রাখার পর শুকিয়ে এলে হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে ঘষে নিলেই মাস্ক টি আপনাআপনি ই ঝড়ে পরবে। এতে করে ত্বকের উপরিভাগের ময়লা ও ত্বকে জমে থাকা মরা কোষ খুব সহজেই দূড় হয়ে ত্বক কে তাৎক্ষণিক ভাবেই উজ্জ্বলতা দিবে এই মাস্ক টি।

দই-হলুদের মাস্কঃ এক বাটি ঠান্ডা দই এর সাথে এক চিমটি গুঁড়ো হলুদ মিশিয়ে সেই ঘন পেষ্ট মুখ, হাত, গলা ও অন্যান্য কালো হয়ে যাওয়া জায়গায় লাগান। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।
টমেটোর মাস্কঃ একটা টমেটো দুই টুকরা করে কেটে নিতে হবে। টুকরো গুলো মুখ, হাত, গলা, পায়ে ঘষে নিন। শুকিয়ে এলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টমেটো তে ব্লিচিং উপাদান থাকে, যেটাতে ত্বক কে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা এনে দিবে। সাথে ত্বকের মলিনতা ও দূর করবে।
টকদই-মধুঃ দুই চা চামচ টক দই এর সাথে এক চা চামচ মধু ভালো ভাবে মিশিয়ে এটি ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় ১০-১৫ মিনিট মালিশ করবেন, প্যাক হিসেবে বা মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা। এটি মালিশের ফলে ত্বকের রোদে পোড়া ভাব চলে যাবে, মরা চামরা দূর হবে, ত্বক চকচকে করতে সাহায্য করবে।
এইগুলো হলো চটজলদি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর কৌশল। তবে শুধু কি ত্বক্ব উজ্জ্বল থাকলেই হবে? ত্বক কে তো ভিতর থেকেই সুন্দর করে তোলা সবার আগে জরুরী। আর তার জন্য রেগুলার মুখ ক্লিন করতে সাবান ছাড়া আমরা আমাদের ত্বকের টাইপ অনুযায়ী যে কোন ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ দিনে দুই তিন বার ধুতে হবে। রেগুলার মেকআপ না করাই ভালো, খুব বেশি দরকার হলে হালকা মেকআপ করুন। বর্ষায় বৃষ্টি হলেও গরম কিন্তু থেকেই যায়। তাই এই গরমে টোনার ব্যবহার করতে একদম ভোলা যাবেনা। কারন গরমে ত্বকের লোপকূপ বড় হয়ে যায়, তাতে করে ময়লা খুব সহজে জমে ত্বকে মৃত কোষ জমে, ব্রন হয়। ত্বক হারিয়ে ফেলে আসল উজ্জ্বলতা। আর এই টোনার লোপকূপ সংকুচিত রাখতে সাহায্য করে। এ্যালকোহল ছাড়া ও এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর গ্রীন টি এবং গ্লাইকোলিক এ্যাসিড উপাদান আছে এমন টোনার ব্যবহার করুন। এটা ত্বকের মৃত কোষ দূর করবে, ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করবে, ত্বকের কালো ছোপছোপ দাগ দূর করবে সাথে ব্রনের সমস্যা ও। রোদের তীব্র তাপ থেকে ত্বক কে বাঁচাতে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে সানস্ক্রিন এবং সেটা অবশ্যই উন্নতমানের সানস্ক্রিন হতে হবে। এসপিএফ ৩০ এর উপরে অবশ্যই হতে হবে। বাসা থেকে বের হওয়ার ৫/৬ মিনিট আগে মুখে সানস্ক্রিন মেখে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে শুধু শীতেই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে এটা কিন্তু ভুল ধারনা, কারন এই গরমে ও দূষণের কারনে ত্বক তার প্রাকৃতিক তেল হারিয়ে ফেলে তাই এই গরমেও ত্বক কে ময়েশ্চারাইজড করাটা খুব জরুরী।

যারা রেগুলার মেকআপ করেন তারা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মেকআপ তুল্র ঘুমাতে যাবেন। যাদের প্রতিদিন বের হতে হয় জীবনের তাগিদে তারা বের হওয়ার আগে ভিজা চুল অবশ্যই শুকিয়ে বের হবেন। নইলে মাথার ত্বকে বিভিন্ন রকম সমস্যা হতে পারে। বেশি করে ফল খেতে হবে। আম, কাঁঠাল, আনারস, বেল, কলা, শশা, গাজর, লেবু, জাম্বুরা হলো ত্বকের প্রাণ, এই ফলের দাম ও বেশি না, আর বর্ষায় এইসব ফল সব জায়গা তেই পাওয়া যায়। এছাড়া খালি পেটে ছোলা ভেজানো খেলে ত্বক জীবাণুমুক্ত থাকবে। আর ত্বকের সব চাইতে বেশি উপকারী হলো পানি। সারাদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতেই হবে। বাইরে থেকে এসেই আগে মুখ ক্লীন করতে হবে, চাইলে গোলাপজল এর সাথে অল্প পানি মিশিয়ে টা বরফ করে নিতে পারেন, এই বরফ মুখে ঘষবেন।
সবশেষে ব্যাগে অবশ্যই ছাতা আর সানগ্লাস রাখতে ভুলবেন না। কারন ত্বক যেহেতু আমাদের অতএব ত্বক সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান রাখার দায়িত্ব ও আমাদেরই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: